দক্ষিণের খবর | www.dokkhinerarthonity.com
দক্ষিণের খবর ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম
আপডেট: রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ১১:২০ এএম
ওয়াশিংটনে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার স্বাক্ষরিত এই চুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, বিশেষ করে এর আগে দুই দেশের মধ্যে বড় অঙ্কের জ্বালানি ক্রয় সংক্রান্ত দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য চুক্তির প্রেক্ষাপটে।
ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই সমঝোতার মূল উদ্দেশ্য হলো জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্যকরণ, সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করা। এতে বলা হয়েছে, এটি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে “বৃহত্তর জ্বালানি সহযোগিতার ভিত্তি” তৈরি করবে।
চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই সমঝোতার মাধ্যমে দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে। বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং অন্যান্য জ্বালানি পণ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প উৎস হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, একক উৎসের ওপর নির্ভরশীলতা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই ধরনের সহযোগিতা জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল করবে।
সমঝোতা স্মারকে তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, ভূতাপীয় শক্তি (জিওথার্মাল) এবং জৈবশক্তি (বায়োএনার্জি) খাতে সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও দক্ষতা বিনিময় এবং গবেষণা সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি খাতে যৌথ উদ্যোগ ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও এতে উঠে এসেছে।
চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি, এলপিজি এবং অন্যান্য জ্বালানি পণ্য আমদানির সুযোগ আরও সহজ ও বিস্তৃত হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও সাশ্রয়ী ও টেকসই করার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর ভূমিকা আরও বাড়াতে পারে। এতে দেশটির জ্বালানি আমদানির উৎস আরও বৈচিত্র্যময় হবে এবং বিশেষ করে সংকটকালীন সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক সরবরাহ অস্থিরতা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং জ্বালানি বাজারে দামের ওঠানামার কারণে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে একক বা সীমিত উৎসের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর চেষ্টা করছে। নতুন এই সমঝোতা সেই কৌশলেরই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে দুই দেশের মধ্যে আরেকটি বড় বাণিজ্য চুক্তি হয়, যেখানে আগামী ১৫ বছরে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেই চুক্তি নিয়েও তখন বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছিল।
এর বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর বাংলাদেশে জ্বালানি খাতে অংশগ্রহণ দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যমান। দেশের প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনের একটি বড় অংশ মার্কিন কোম্পানি পরিচালিত ক্ষেত্র থেকে আসে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া এলএনজি টার্মিনাল ও এলপিজি সরবরাহ খাতেও মার্কিন কোম্পানির উপস্থিতি রয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, গভীর সমুদ্র এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান, নতুন ব্লক উন্নয়ন এবং এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। এতে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে বহুমুখী হতে পারে, যদিও এতে নির্ভরতার ধরন বদলালেও বৈশ্বিক বাজারের প্রভাব থেকেই যাবে।
অন্যদিকে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের বড় অংশই আমদানি করতে হয় এবং এর সিংহভাগ আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল আমদানি করা হয়।
তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্ষেত্রেও কাতার ও ওমানের মতো সীমিত কয়েকটি দেশের ওপর নির্ভরতা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পরিস্থিতি, যুদ্ধ ও সরবরাহ ব্যাঘাতের কারণে এই নির্ভরতা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এমন প্রেক্ষাপটে বিকল্প উৎস হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সমঝোতা বাংলাদেশের জন্য একটি অতিরিক্ত সরবরাহ পথ খুলে দিতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। তারা বলছেন, এটি সরাসরি কোনো বাধ্যতামূলক ক্রয় চুক্তি নয়, বরং সহযোগিতা ও সম্ভাবনা সম্প্রসারণমূলক একটি কাঠামো, যার বাস্তবায়ন নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ চুক্তি ও বাজার পরিস্থিতির ওপর।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক: মো. সরোয়ার হোসেন মিঠু
নির্বাহী সম্পাদক: ইমতিয়াজ আহমেদ
বার্তা সম্পাদক: নাজমুল হোসেন লাভলু
ডিজিটাল ইনচার্জ: মো.সোবাহান মিয়া
Email: dokkhinerkhobor@gmail.com
Publisher & Editor In Chief:
Contact No:+880 1717607442
Address: Shibchar Powro Super Market, 2nd Flor, Shop No.44, Shibchar Sadar, Madaripur.
স্বত্ব দক্ষিণের খবর
Developed by Vida Team